প্রায় এক মাস আগের কথা, উপরের ছবিতে যে মেয়েটিকে দেখছেন তাকে আমি ও এই এক’ই ভাবে দেখেছিলাম রামপুরা বাজার এলাকাতে। সারাদিন পত্রিকা বিক্রি করে ৪০০ টাকা জমিয়েছিল যা কিনা কোন এক অসাধু লোক তার কাছ থেকে নিয়ে যায়। দেখে খারাপ লাগলো, দেখলাম আসে পাশে অনেক মানুষ আফসোস করছে কিন্তু কেউ একটি টাকাও দিচ্ছে না। আমি বললাম চলো আমার সাথে তোমার যতো টাকা নিয়েছে আমি দিয়ে দিচ্ছি। সে সময় পাশের এক আপু একশো টাকার একটি নোট তাকে দিল আর আমি গেলাম কাছের ব্রাক ব্যাঙ্কের বুথে টাকা তুলতে সাথে মেয়েটিকে নিয়েই গিয়েছিলাম। তাকে আমি ৫০০ টাকা দিলাম এবং কোথায় থাকে জিজ্ঞেস করলাম,  বলল মিরপুর।

যেতে পারবে কিনা জিজ্ঞেস করলে বলল পারবে আমিও বাসায় চলে এলাম।

আজকে (৯ মার্চ, ২০১৩) ফেসবুকে “রক্ত দিন জীবন বাঁচান” পেজ এ দেখলাম তারা এই মেয়ের একটি ছবি ও কিছু কথা লিখেছে, আমি সেদিন যে ঘটনা শুনেছিলাম ঠিক এক’ই গল্প, আপনাদের জন্যে আমি পেজ এর লেখাটি হুবুহু তুলে দিলাম:

“সময় সাতটা দশ মিনিট। ঢাকা- বাটা সিগনালের মোড়। হঠাৎ একটা জটলার দিকে নজর পড়ল। এগিয়ে যাবার পর দেখি একটা ছোট্র মেয়ে কান্না করছে বুকে জড়িয়ে কয়েকটা দৈনিক পত্রিকা। অনেকে অনেক প্রশ্ন করছে সে কোনো উত্তর করতে পারছে না সঠিক ভাবে। হিক্কা তুলে কান্না করছে হাপুশ নয়নে। অনেকেই সাগ্রহে পাঁচ টাকা দশ টাকা দিচ্ছে। পাশে যেয়ে বসলাম জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে? সে যা বললো- ‘সারাদিন পত্রিকা বিক্রি করে ৪০০/= জমাইছি, কাইলকা পত্রিকা কিনতে অইবো, ঐসুম এক্টা লুক আইসা টাকা কয়টা কাইড়া নিয়া দৌড় দেয়। আমি পত্রিকা কিনমু ক্যামনে কাইলকা?’ আশেপাশে জড়ো হওয়া লোকজনকে বললাম আপনারা যে যা পাড়েন হেল্প করুন। সবাই করলো। ঠিক সতের মিনিটেই ৪২০ টাকা হয়ে গেলো। তাকে ভাজ করে সব দেয়া হলো। সে খুশি হলো। আগামীকাল সে আবার পত্রিকা কিনতে পারবে। চারটে ডাল ভাত জুটবে। এইতো আমাদের বেঁচে থাকা! 

কৃতজ্ঞতা – Kuhok Mahmud.

কাকে বিশ্বাস করবেন ???

সাবধান হন দয়া পরবশ হয়ে আমরা যাদের সাহায্য করছি, যার পুরোটাই যাচ্ছে এক প্রতারক চক্রের হাতে এবং উদরপূর্তি করছে চোর শ্রেণীর একদল লোক।

কষ্ট হলেও এসব এখন থেকে না দেখে’ই চলে যাব সিদ্ধান্ত নিলাম। আপনারা কি করবেন চিন্তা করে দেখুন।

দরকার মনে করলে শেয়ার করুন। চারপাশের মানুষজন জানুক এমন ভন্ডদের কথা।

Comments
Kazi Mamun

Kazi Mamun

আমি কাজী মামুন, পেশায় ওয়েব ডেভেলপার। ইউ.আই. ইউ.এক্স এবং ওয়ার্ডপ্রেস নিয়েই কাজ করা হয়। এর বাইরে নতুন নতুন গ্যাজেট নিয়ে ঘাটা-ঘাটি করতে ভাল লাগে। টেকনোলজি নিয়ে টুকটাক লেখালেখি, মাঝে মাঝে ইউটিউব ভিডিও বা পডকাস্ট করতে ভাল লাগে।

আপনার মতামত দিন...