নতুনদের জন্য প্র্যাকটিস

কাজ শেখা শুরু করলে যে সমস্যাটা সবচেয়ে বেশী হয় সেটা হলো কিছুটা করার পরেই মনে হয়ে এই টুল সম্পর্কে বেশ ভাল একটা আইডিয়া হয়ে গেছে, তো আর শেখার দরকার নেই। বাকিটা রিয়েল লাইফ প্রজেক্ট করার সময় প্রয়োজন হলে দেখে নিবো। আর এখানেই নতুনের সবচেয়ে বেশী ধরাটা খায়। যেকোন কিছুর শুরুটা খুবই সহজ থাকে যদি আমি ডিটেইলস এর সাথে তুলনা করি তো। এই তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে অনেক ডিটেইলস বাদ পরে যায়। আর এই বাদ পরা জিনিসগুলো ফেস করবেন যখন ক্লায়েন্ট এর কাজ করতে যাবেন, একদিকে ক্লায়েন্ট এর কাজের প্রেশার, সময় মত ডেলিভারি। অন্যদিকে আপনি যেহেতু নতুন তাই কাজ করতে গেলে আপনার গতি একজন প্রফেশনাল এর চেয়ে অনেক কম থাকবে। তো সারাক্ষণ’ই আপনি একটা মানসিক চাপের মদ্ধে থাকবেন। ফলশ্রুতিতে প্রজেক্ট ফেইল করবে। ক্লায়েন্ট আপনার প্রথম কাজেই একটা বাজে ফিডব্যাক দিয়ে দিলো। শুরুটাই হলো খারাপভাবে।

এই চক্র থেকে বেড় হয়ে আসতে চাইলে নিজের স্কিলকে ঝালাই করতে হবে। আর সেটার জন্য প্র্যাকটিস এর কোন বিকল্প নেই।

উত্তরণের উপায়

১) যেকোন একটা কিছু শেখার সময় কিছু সেট অফ রুলস বানিয়ে নিন। আমি এই টুলস দিয়ে কি ধরনের প্রজেক্ট করবো সেটার একটা আউটলাইন করুন।

২) নিজের করে ফেলা কাজগুলোর ফল্ট খুঁজে বেড় করুন। গ্রুপগুলোতে শেয়ার করুন। তাঁদের মতামত নিন। সেগুলো নিয়ে কাজ করুন।

৩) সম্ভব হলে সিনিয়র কোন মেন্টর এর আন্ডারে কাজ করার চেষ্টা করুন।

৪) যে টুলসের কাজ শিখছেন সেটা দিয়ে কি কি করা সম্ভব সেগুলো ভালভাবে দেখুন। তারপর আপনার দক্ষতা দিয়ে কতটা করা যায় সেটা কম্পেয়ার করে সে ধরনের কাজগুলো করুন। একটা উদাহরণ দিলে হয়তো বুঝতে সুবিধা হবে। যেমন ধরুন আপনি ইলাস্ট্রেটর এর কাজ শিখছেন, এবং আপনি ব্যনার ডিজাইন করতে ভালবাসেন। তো আপনার ল্যান্ডমার্ক হবে ব্যানার ডিজাইন এর ভাল কাজগুলো। এখন কেউ হয়তো ক্যারেক্টার ইলাস্ট্রেশন করছে ইলাস্ট্রেটর দিয়ে, তার সাথে নিজেকে তুলনা করলে চলবে না। আপনি দেখবেন ভাল ভাল বা পপুলার ব্যানার ডিজাইন রিলেটেড কাজ এবং নিজেকে ভেঙ্গে ভেঙ্গে সে জায়গায় নিয়ে যেঁতে চেষ্টা করবেন।

৫) প্রথমদিকে যখন কাজ শুরু করেছেন তখন কাজ থাকবে অনেক আগোছালো। অনেক জোড়াতালি থাকবে কাজে। সূক্ষ্ম ব্যাপারগুলো মাথায়’ই আসবে না। কোন সমস্যা নেই। তবে সময়ের সাথে সাথে এ ব্যপারগুলোতে নজর দিতে হবে এবং নিজেকে প্রতিনিয়ত ইম্প্রুভ করে যেঁতে হবে।

টিপস

১) নিজেকে সবজান্তা ভাবা থেকে বিরত থাকতে হবে। যেকোন কাজের ক্ষেত্রে বিনয়ী হওয়াটা অনেক বেশী জরুরী। সেটা না থাকলে কেউ’ই আপনাকে হেল্প করতে আগ্রহী হবেনা। আপনার কাজের কেউ পজিটিভ সমালোচনা করলো আর আপনি সেটা না নিতে পেরে সেই ব্যাক্তির সাথে বাজে ব্যবহার শুরু করলেন। ফলশ্রুতিতে আপনার কাজের সমালোচনা আর কেউ করবেনা। এবং আপনি আপনার ইম্প্রুভমেন্ট এর জায়গা’ও জানতে পারবেন না।

২) চারপাশে শেখার মত সোর্স এর অভাব নেই। শিখতে থাকুন, প্র্যাকটিস করতে থাকুন। ইউটিউব আর গুগল করলেই শেখার মত হাজারো সোর্স। “ও আর এমন কি ওর চেয়ে আমি ভাল পারবো একটু প্র্যাকটিস করলেই”, এই মনোভাব আপনাকে পিছনে ফেলে রাখে। যাকে ছোট করে কিছু বলছেন, সে কিন্তু প্র্যাকটিস করে যাচ্ছে। আর আপনি কিছু না করেই নিজেকে তার চেয়ে বেটার বলে দাবি করে ফেলছেন। পার্থক্যটা কিন্তু এখানেই গড়ে ফেলছেন।

৩) নিজেকে অভারসেল করবেন না। ক্লায়েন্ট এর কাজ করতে গেলে অনেক সময়েই নিজেকে আমরা অভারসেল করে ফেলি। যা পারিনা সেটা পারি পারি বলে চিল্লাচিল্লি করতে থাকি। প্র্যাক্টিক্যাল কাজে গেলে তখন ধরা খেতে হয়। তাই, নিজের দৌড় বুঝেই নিজের বিজ্ঞাপন করুন।

আপনি শেখার ক্ষেত্রে কি নিয়ম অনুসরণ করেন? বা যেঁ অজুহাতে আমরা পিছিয়ে থাকি বলে আমি বললাম সেগুলো থেকে কোনটা আপনার সাথে মিলে গেলো? কমেন্টে  জানান।

Comments
Kazi Mamun

Kazi Mamun

আমি কাজী মামুন, পেশায় ওয়েব ডেভেলপার। ইউ.আই. ইউ.এক্স এবং ওয়ার্ডপ্রেস নিয়েই কাজ করা হয়। এর বাইরে নতুন নতুন গ্যাজেট নিয়ে ঘাটা-ঘাটি করতে ভাল লাগে। টেকনোলজি নিয়ে টুকটাক লেখালেখি, মাঝে মাঝে ইউটিউব ভিডিও বা পডকাস্ট করতে ভাল লাগে।

Leave a Reply