আপওয়ার্ক আই.ডি. সাসপেন্ড মানেই সব শেষ নয়

বড় মার্কেটপ্লেস গুলোতে আইডি সাসপেন্ড হয়ে যাওয়া আসলেই হতাশাজনক একটি ব্যপার। এবং আমরা অনেকেই পুরোপুরি এ ধরনের প্লাটফর্ম এর উপর ডিপেন্ডেন্ট। তবে ঝর আসতেই পারে এটার প্রস্তুতি রাখাটা হলো বুদ্ধিমানের কাজ।
আমি এখানে যে ব্যপারগুলো আলোচনা করবো সেগুলোই যে করতে হবে ব্যপারটা তা নয়, এর বাইরেও আরও অনেক কিছু করা যেতে পারে এই ঝর মোকাবেলা করতেঃ

 


আই.ডি যেন সাসপেন্ড না হয় তার জন্য কিছু ব্যপার মাথায় রাখতে হবেঃ

১) নিজের স্কিল এর সাথে যায়না এমন কাজে কখনোই বিড করবেন না।
২) আপওয়ার্ক এর বাইরে পেমেন্ট নেয়ার চিন্তাও করবেন না।
৩) মেসেজে এমন কিছু বলবেন না যা দেখে মনে হয় আপনি ক্লায়েন্টকে আপওয়ার্ক এর বাইরে নিতে চাচ্ছেন।
৪) NID এর পাশাপাশি পাসপোর্ট রেডি রাখবেন, ভেরিফাই এর জন্য ব্যবহার এর জন্য।
৫) নিজের আইডি কারো সাথে শেয়ার করবেন না।
৬) প্রফেশনালিজমের সাথে ক্লায়েন্ট স্যাটিসফেকশন ধরে রাখার চেষ্টা করবেন।

 


সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আইডি সাসপেন্ড হওয়ার সম্ভাবনা একদম নেই বললেই চলে, তারপরেও যদি কোন কারনে সাসপেন্ড হয়েই যায় সেক্ষেত্রে কি করা যেতে পারেঃ

১) নিজের স্কিল আপ-টু-ডেট রাখা, এবং অনবরত শিখতে থাকা (আই.ডি. সাসপেন্ডের সাথে স্কিল এর কি সম্পর্ক সেটাতে আসছি একটু পরেই)।

২) সবসময় নিজের চারপাশে মানুষ নিয়ে একটা টিম করে রাখার ট্রাই করবেন, লাইফে একটা সময় আর একা কাজ করতে পারবেন না বা বড় কিছু করতে হলে টিম দরকার হবে, সেজন্য টিম তৈরি করার প্রচেষ্টা থাকতে হবে সবসময়। একটা ভাল টিম যেকোন বাধা’ই মোকাবেলা করতে পারে এবং গৎবাঁধা ব্যপারগুলো থেকে বেড়িয়ে নতুন কিছু করা সম্ভব হয়।

৩) স্কিল আপ-টু-ডেট রাখতে হবে যেন চাইলেই আপনি ক্লায়েন্ট থেকে বেড় হয়ে নিজের প্রোডাক্ট নিয়ে মার্কেটপ্লেস এ কাজ করতে পারেন। যদি আপনি প্রোগ্রামার হোন তাহলে Themeforest এর মত প্লাটফর্মে জন্য নিজের প্রোডাক্ট বানানোর এবং বিক্রির চেষ্টা করতে পারেন। গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের জন্যও এ ধরনের অনেক প্লাটফর্ম আছে। UpWork বা Fiverr একাউন্ট সাসপেন্ড হয়ে গেলেই সব শেষ এটা চিন্তা করা যাবেনা। কাজ করার মত অনেক কিছু আছে।

৪) UpWork বা Fiverr এর বাইরেও অনেক মার্কেটপ্লেস আছে, যেমন guru.com, peopleperhour. গুগল করলেই বা গ্রুপে সার্চ করলেও অনেক নাম পাবেন এ ধরনের মার্কেটপ্লেসের। আমার জীবনের প্রথম ফিক্সড ক্লায়েন্ট ছিলো একটি ছোট মার্কেট প্লেস থেকে।

৫) যদি SEO, ডিজিটাল মার্কেটিং এ ধরনের কাজ করেন সেক্ষেত্রে এফিলিয়েট মার্কেটিং বা ড্রপশিপিং হতে পারে একটি ভাল অল্টারনেটিভ।

৬) নিজে ওয়েবসাইট দিয়ে মার্কেটিং করতে পারেন নিজের ব্রান্ড এর। একটু ইউটিউব আর গুগল ঘাটালেই দেখবেন হাজার হাজার সোর্স আছে কিভাবে নিজের ওয়েবসাইট দিয়ে কোন স্পেসিফিক রিজিয়ন এর ক্লায়েন্ট টার্গেট করে মার্কেটিং করতে হয় এবং সেই প্রোবাবল ক্লায়েন্ট এর থেকে কাজ বেড় করে আনা যায়।

৭) ঐযে প্রথমে বলেছিলাম স্কিল আপ টু ডেট রাখতে, কেন বলেছিলাম, আমি যে পয়েন্টগুলো অল্টারনেট হিসেবে আলোচনা করেছি তার একটিও আপনি করতে পারবেন না যদি আপনার স্কিল ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটে ফাইট করার মত না হয়। সবচেয়ে জরুরি স্কিল, সেটা থাকলে আইডি সাসপেনশন কখনোই আপনাকে আটকে রাখতে পারবে না।

 


কেমন হলো জানাবেন। ভাল লাগলে শেয়ার করতে পারেন বন্ধুদের সাথে।  কোণ প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট সেকশনে জানাতে পারেন। ধন্যবাদ সবাইকে।

Kazi Mamun

Kazi Mamun

আমি কাজী মামুন, পেশায় ওয়েব ডেভেলপার। ইউ.আই. ইউ.এক্স এবং ওয়ার্ডপ্রেস নিয়েই কাজ করা হয়। এর বাইরে নতুন নতুন গ্যাজেট নিয়ে ঘাটা-ঘাটি করতে ভাল লাগে। টেকনোলজি নিয়ে টুকটাক লেখালেখি, মাঝে মাঝে ইউটিউব ভিডিও বা পডকাস্ট করতে ভাল লাগে।

আপনার মতামত দিন...