আপওয়ার্ক এ টপ রেটেড হতে পারা মানে একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করতে পারা এবং একটি বিশাল এচিভমেন্ট বলা যায়।

 

এই পোস্টটি একটি জানতে চাওয়া প্রশ্ন থেকে। টপ রেটেড ব্যাজ পাওয়ার পর কি কি করনীয় এবং কি কি বর্জনীয়? এখানের অনেকগুলো কথাই আসলে সবার জন্যই প্রযোজ্য। যারা’ই কোননা কোন সেক্টরে কাজ করছেন। তবে একটা উদ্দেশ্য নিয়ে লেখাটা দাড়িয়ে গেল আরকি।

প্রথমেই বলে নেই এই ব্যাজ পেলে কি কি প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সুবিধা আপনি পাচ্ছেন। সুবিধাগুলোই আসলে আপনার করনীয় এর অনেক কিছু নির্ধারণ করে দিবে।

১. প্রোফাইল সিক্যুরিটি। এটা পরোক্ষ একটা সুবিধা। যেকোন প্লাটফর্ম’ই তার গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের বিরুদ্ধে কোন একশন নেয়ার আগে একবার চিন্তা করবে বা আপিল করার সুযোগ দিবে। এক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে হলেও কিছুটা সুবিধা পাওয়া যায়।

২. আপওয়ার্ক হেল্প এ চ্যাট করার সুবিধা। যেকোন সমস্যার সরাসরি সাপোর্ট এ নক দিয়ে কথা বলে নিতে পারেন। এবং সাধারনত ১-২ মিনিটের ভেতরই চ্যাট এ কোন না কোন এজেন্ট চলে আসে।

৩. ইনভাইটেশনঃ আগের চেয়ে বেশী ইনভাইট পাবেন জব এ।

৪. নিজে চাইলে UpWork Huddle হোস্ট করতে পারবেন।

 


এখন আসি নরমালি একজন রিলায়েবল টপ রেটেড ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কি কি করনীয়ঃ

১. ব্যাজ ধরে রাখতে হলে আপনাকে কাজ করে যেতে হবে এবং সেই কাজগুলো যেন সাক্সেসফুলি শেষ হয় সেটা সবসময় নিশ্চিত করে যেতে হবে।

২. ইনভাইট পেলেই সে কাজ করতে হবে এটা মাথা থেকে ঝেরে ফেলে দিন। কাজটি যদি আপনি পারেন এবং আপনার হাতে সময় থাকে তাহলেই বিড করুন এবং কাজ পাওয়ার চেষ্টা করুন।

৩. ক্লায়েন্ট স্যাটিসফেকশন ধরে রাখার চেষ্টা করুন। প্রজেক্ট সুন্দরমত করতে পারলেই সাধারনত ক্লায়েন্টরা ৫ স্টার রেটিং এবং ভাল ফিডব্যাক দিয়ে দেয়। সেটা ধরে রাখার চেষ্টা করুন।

৪. নিজের স্কিল নিয়ে অনবরত কাজ করে যেতে হবে। অনেকে হয়তো বলে অনেক কিছু শিখতে থাকতে হবে। আমি বলবো অল্প অল্প জিনিস শিখুন কিন্তু যেটাই শিখুন সেটাতে খুব ভাল হওয়ার চেষ্টা করুন। ক্লায়েন্ট সেই কাজটি দিলে যেন আপনি অনায়াসে করে ফেলতে পারেন সকল ধরনের রিভিশনসহ সে ব্যপারে কনফিডেন্ট হওয়ার চেষ্টা করে যান।

৫. নিজের প্রফেশনালিজম এবং পারসোনালিটি গ্রো করুন। পারসোনালিটি গ্রো করা মানে ইগো’র গাট্টি হয়ে যাওয়া নয়। নিজের কথাতে কনফিডেন্ট থাকা, নিজের ভুলকে স্বীকার করতে পারার ক্ষমতা, প্রয়োজনে সর‍্যি বলতে পারা (অপ্রয়োজনে অহেতুক সর‍্যি বলা থেকে বিরত থাকুন), অন্যের মতামতকে প্রাধান্য দিতে পারা সব মিলিয়েই একজনের পারসোনালিটি গড়ে উঠে। এগুলো শুধু পার্সোনাল লাইফেই নয়, প্রফেশনাল লাইফে পার্সোনাল লাইফের চেয়ে বেশী কাজে দেয়।

৬. কাজের বাইরে একটা লাইফ আছে, সেটাকে এখন থেকেই গুরুত্ব দেয়া শুরু করুন। শুধু কাজ আর ডলার থেকে বেড় হয়ে এসে মাঝে মাঝে ঘুরতে যাবেন। পরিবারকে সময় ্দিবেন।

৭. নিজেকে মাঝে মাঝে গিফট দিবেন, নিজের ভাল কাজের জন্য নিজের পছন্দের কিছু নিজেকে গিফট করবেন, এতে করে কাজ এর প্রতি মোটিভেটেড থাকবেন।

৮. শেষ কথা, অবসর সময়ে কম্যুনিটিতে একটিভ হওয়ার চেষ্টা করবেন। ছোটদেরকে জানার এবং জানানোর সুযোগ করে দিবেন।


যা করবেন নাঃ

১. অহংকার।

২. সবাই স্বাধীন কর্মী এই সেক্টরে। কেঁউ কাউকে কেয়ার না করলে কিছু যায় আসেনা। তারপরেও আমরা সবাই যে যার যার জায়গা থেকে সবাইকে সম্মান দিয়ে একসাথে চলার চেষ্টা করি। সে জায়গাটা ধরে রাখার চেষ্টা করবেন। কাউকেই অসম্মান করবেন না।

৩. Top Rated হয়ে যাওয়াতেই সব পেয়ে গেলাম, এতা ভুলেও মাথায় আনবেন না। নিজেকে এক্সপান্ড করতে থাকবেন সবসময়।

৪. দুই-চার টাঁকা লাভের আশায় UpWork এর বাইরে ক্লায়েন্ট নিয়ে আসার চেষ্টা করবেন না।

৫. দুই-চার টাঁকা লাভের আশায় Payoneer লোকাল মার্কেটে বিক্রি করবেন না।


 

এইতো মোটামুটি যা মাথায় ছিলো বলে দিলাম। ভবিষ্যতে আরো কিছু মাথায় আসলে এড করে দিবো। কেমন হলো জানাবেন। ভাল লাগলে শেয়ার করতে পারেন বন্ধুদের সাথে।  কোণ প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট সেকশনে জানাতে পারেন। ধন্যবাদ সবাইকে।

 

Kazi Mamun

Kazi Mamun

আমি কাজী মামুন, পেশায় ওয়েব ডেভেলপার। ইউ.আই. ইউ.এক্স এবং ওয়ার্ডপ্রেস নিয়েই কাজ করা হয়। এর বাইরে নতুন নতুন গ্যাজেট নিয়ে ঘাটা-ঘাটি করতে ভাল লাগে। টেকনোলজি নিয়ে টুকটাক লেখালেখি, মাঝে মাঝে ইউটিউব ভিডিও বা পডকাস্ট করতে ভাল লাগে।

আপনার মতামত দিন...